কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম রিন্টুর সহযোগী হিসেবে পরিচিত আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে ‘শ্যুটার সুমন’-এর বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক-সংশ্লিষ্টতা, প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, আব্দুল্লাহ আল মামুন দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে বিভিন্ন ব্যক্তিকে যুক্ত করার পর তাঁদের নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় বা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ভুয়া ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য তৈরি করা হয়। পরে এসব ছবি ও তথ্য ভুয়া ফেসবুক আইডির মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশ্রয়-প্রশ্রয়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন তাঁর কথিত কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন। ৫ আগস্ট কুমিল্লা পুলিশ লাইনে অস্ত্র লুটের ঘটনার সঙ্গেও তাঁর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলা, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা নির্ভরযোগ্য নথি পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর সত্যতা আরও স্পষ্ট হবে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে তিনি দৌরাত্ম্য চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের প্রশ্ন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি কীভাবে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন এবং এর পেছনে কারও রাজনৈতিক বা অন্য কোনো আশ্রয়-প্রশ্রয় রয়েছে কি না। এমনকি বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির চেষ্টা করে নিজের প্রভাব বজায় রাখার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, আব্দুল্লাহ আল মামুন হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন। আগামী ডিসেম্বরে সম্ভাব্য নাশকতার উদ্দেশ্যে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অর্থ দিয়ে সহায়তা করা এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে সংগঠিত করতে গোপন বৈঠক করার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
এ অবস্থায় অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক, কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তাঁকে আইনের আওতায় আনা উচিত।









