সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন শত শত প্রার্থী। প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ২৭ জেলার অন্তত ৭৭৮ জন এখনো নিয়োগপত্র পাননি। তবে সব জেলার তথ্য যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর চূড়ান্ত ফল গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন জেলায় নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হলে অনেক প্রার্থী জানতে পারেন, চূড়ান্ত ফলাফলে নির্বাচিত হলেও তাদের হাতে নিয়োগপত্র পৌঁছেনি।

প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জে ১২০, ভোলায় ৮৪, খুলনায় ৫৯, জামালপুরে ৫২, বগুড়ায় ৪৮, পিরোজপুরে ৪৫ এবং পাবনায় ৩৫ জনের নিয়োগপত্র না পাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ, হতাশা ও নিয়োগ থেকে বাদ পড়ার কারণ জানতে চেয়ে পোস্ট করছেন অনেক প্রার্থী।

citytouch 728-X-90

কয়েকজন প্রার্থী দাবি করেছেন, এনএসআই/ডিএসবি ভেরিফিকেশনের কারণে তাদের নাম নিয়োগপত্রের তালিকায় নেই। কেউ কেউ নিজেদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা আইনগত সমস্যা না থাকার কথা উল্লেখ করে বাদ পড়ার কারণ জানতে চেয়েছেন। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়-২ শাখার উপসচিব রাজীব কুমার সরকার বলেন, নিয়োগপত্র প্রদানের তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে রয়েছে। নির্বাচিত সবাই নিয়োগপত্র পাবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগের সঙ্গে একমত নন। তাঁর দাবি, নিয়োগপত্রগুলো ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে এবং কিছু এলাকায় পৌঁছাতে দেরি হতে পারে। এ কারণে ১ অক্টোবর পর্যন্ত যোগদানের সময় দেওয়া হয়েছে। এনএসআই ভেরিফিকেশনের কারণে কেউ বাদ পড়েছেন কি না, এ মুহূর্তে এমন কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই বলেও জানান তিনি।