ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত চার মাস ধরে নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন শিক্ষানবিশ নার্স বিথী আক্তার। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবার জানিয়েছে।

পরিবারের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ মে ডা. তামান্না ও ডা. অরবিন্দের তত্ত্বাবধানে বিথীর সিজারিয়ান অপারেশন হয়। অপারেশনের পর থেকেই তীব্র পেটব্যথাসহ নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন তিনি। প্রায় দুই মাস পর পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হলে পেটের ভেতরে গজ থেকে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে বলে অভিযোগ পরিবারের।

বিথীর দাবি, পেটে গজ থাকার কারণে সংক্রমণ ছড়িয়ে তাঁর অন্ত্রের ক্ষতি হয় এবং পরে বাইপাস সার্জারি করতে হয়েছে। দীর্ঘ চিকিৎসায় তাঁর ওজন ৬১ কেজি থেকে কমে ৩৯ কেজিতে নেমেছে বলেও জানান তিনি। বর্তমানে হার্টের জটিলতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এবং আরও অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছে।

citytouch 728-X-90

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিথী বলেন, “আমি নিজে একজন নার্স হয়েও যদি এমন অবহেলার শিকার হই, তবে সাধারণ রোগীদের কী পরিণতি হয়?” দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকায় তাঁর ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করা এবং লাইসেন্স পরীক্ষায় অংশ নেওয়াও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নবজাতক সন্তানকে কোলে নেওয়া ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সুযোগ থেকেও তিনি বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানান।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে ৫ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলাম ও পরিবারের সদস্যরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে আরও স্পষ্ট হওয়া যাবে।