সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্য ও বিভিন্ন পোস্টকে ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সম্প্রতি একটি বিমানের ককপিটে সহ-পাইলটের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেওয়া তার একটি মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।


ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 ফ্লাইটের ককপিটে সহ-পাইলটের হামলার ঘটনা সামনে আসার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ওই ঘটনায় ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ওপর ছুরি নিয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামির বিরুদ্ধে।

citytouch 728-X-90

হামলার পরও ক্যাপ্টেন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের সহায়তায় হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।


ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তসলিমা নাসরিন লেখেন, ‘এখন তো পাইলট মুসলমান হলে সেই ফ্লাইটে যেতেই ভয় লাগবে…।’

তার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই শুরু হয় বিতর্ক। পোস্টটির মন্তব্যের ঘরে কেউ কেউ তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হলেও অনেকে এর তীব্র সমালোচনা করেন।


সমালোচনাকারীদের একাংশের বক্তব্য, কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পুরো একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে এক করে দেখা উচিত নয়। তাদের মতে, কোনো ব্যক্তির অপরাধ বা আচরণের দায় একটি সম্পূর্ণ ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর চাপানো সামাজিক বিভাজন ও ধর্মীয় বিদ্বেষ বাড়াতে পারে।

কেউ কেউ তসলিমা নাসরিনকে এ ধরনের মন্তব্যের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আবার কয়েকজন মন্তব্যকারী তার বক্তব্যের পাল্টা জবাবও দিয়েছেন। ফলে পোস্টটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।


তসলিমা নাসরিন দীর্ঘদিন ধরেই তার লেখালেখি ও বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে আলোচনায় রয়েছেন। ধর্ম, সমাজ ও নারীর অধিকার নিয়ে তার বিভিন্ন মন্তব্য অতীতেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ভারতের বিভিন্ন শহরে অবস্থান করছেন।


সাম্প্রতিক এই পোস্টের পর আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন তসলিমা নাসরিন। তবে তার মন্তব্য নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই অনেকে মনে করছেন, কোনো ব্যক্তির অপরাধ বা কর্মকাণ্ডের দায় পুরো একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর চাপানো উচিত নয়।