ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) প্রধান হুমায়ুন কবির রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) এক আবেগঘন বক্তব্যে তিনি জানান, দুর্গাপূজার পর বিধায়ক পদ থেকেও পদত্যাগ করবেন।

এর আগে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনকে ‘প্রহসন’ হিসেবে উল্লেখ করে ভোট গণনার আগেই নিজের পরাজয় মেনে নেন হুমায়ুন কবির। ওই আসনে তার ছেলে গোলাম নবী আজাদ প্রার্থী হয়েছেন।

হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, রেজিনগরের বাসিন্দাদের ঠিকমতো ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তার দাবি, আরএসএসের কর্মী ও পুলিশ সদস্যদের বিশেষ ব্যাজ দেওয়া হয়েছিল এবং ওই ব্যাজ পরে ঘোরাফেরা করা ব্যক্তিরা ভোট লুট করেছেন।

citytouch 728-X-90

আবেগাপ্লুত হয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, এই অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে না পারলে রাজনীতি করা কিংবা বিধায়ক পদে থাকার কোনো অর্থ নেই। দুর্গাপূজার পর তিনি মানুষের সঙ্গে বৈঠক করে ক্ষমা চাইবেন এবং এরপর রাজনৈতিক জীবন শেষ করবেন বলেও জানান।

এ বছর ১৫ থেকে ২১ অক্টোবর দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পূজা শেষ হওয়ার পরই রাজনীতি ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন।


রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি। সুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী থাকা পর্যন্ত বিধানসভায় যাবেন না বলেও ঘোষণা দেন হুমায়ুন। এটিকে তিনি রাজনীতি থেকে ‘সন্ন্যাস’ নেওয়ার অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করেন।

তার এই ঘোষণার পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। দলটির বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, হুমায়ুন কবির বিজেপির সুবিধা করতে চান, নাকি সত্যিকার অর্থে বিজেপির বিরোধিতা করতে চান—সেটি এখন তাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এর আগে উপনির্বাচনের দিন পুলিশ হুমায়ুন কবিরকে আটক করেছিল। পরে সন্ধ্যায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভোট দেওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকটি বুথে পুলিশ ভোটপ্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছে। গত দুই মাসে ৬৪ জনকে আটক করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।


চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর ও নওদা—দুই আসনেই জয় পেয়েছিলেন হুমায়ুন কবির। রেজিনগরে তিনি ১ লাখ ২৩ হাজার ভোট পেয়ে বিজেপির বাপন ঘোষকে ৫৮ হাজার ৮৭৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। দুটি আসনে জয় পাওয়ার পর তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন। এরপর ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

তবে এর আগেও রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে পরে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছিলেন হুমায়ুন কবির। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর বিধায়ক পদ ছাড়ার ঘোষণা দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করেন। এরপর তৃণমূলের সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনি আম জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করেন।


মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের আদলে একটি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে কেন্দ্র করেই তৃণমূলের সঙ্গে তার বিরোধ আরও প্রকাশ্য হয়ে ওঠে। এবার উপনির্বাচন ঘিরে বিরোধ ও অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেই আবেগঘন বক্তব্যে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দিলেন হুমায়ুন কবির।