পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারির পর সেনাবাহিনী মোতায়েনের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। একই সঙ্গে প্রদেশটিতে গভর্নর শাসন জারি করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) জরুরি অবস্থা জারির পর প্রদেশটিতে সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতেই সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির সংবিধানের ২৪৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জরুরি অবস্থা ও গভর্নর শাসন বহাল থাকা পর্যন্ত সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
জরুরি অবস্থা জারির পর প্রদেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সোয়াইব আফ্রিদিসহ পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) কয়েকজন নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে তাঁর সমর্থকেরা রাজধানীতে বড় ধরনের পদযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে বড় কনটেইনার বসিয়ে যান চলাচল বন্ধ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।
সরকারের পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে ইমরান খানের দল পিটিআই। দলটির অভিযোগ, আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সরকার ক্ষমতার অপব্যবহার করে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে দেশে রাজনৈতিক সংঘাত ও সহিংসতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি।
পিটিআইয়ের নেতারা আরও অভিযোগ করেছেন, সরকার প্রকৃত অর্থে শান্তিপূর্ণ আলোচনায় আগ্রহী নয়। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি অবস্থা ও সেনা মোতায়েনের পদক্ষেপকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনকে সহায়তা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা, গভর্নর শাসন ও সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আগামী দিনগুলোতে কেন্দ্রীয় সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে বিরোধ কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।









