প্রাণঘাতী বন্যার কয়েক মাস না যেতেই নেপালে আবারও আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির মধ্যাঞ্চলের গোর্খা জেলায় ভূমিধসের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১১ অক্টোবর) কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে গোর্খা জেলার চুমনুব্রি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভূমিধসের ফলে বুধি গণ্ডকি নদীর প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়। পরে নদীর পানি আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন নারী ও তিনজন পুরুষ রয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে নয়জন বিদেশি নাগরিকসহ অন্তত ৮২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বন্যায় প্রায় এক ডজন ঘরবাড়ি এবং দুটি ঝুলন্ত সেতু ভেসে গেছে। এ ছাড়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্যাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রকল্পের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত কিছু সরঞ্জামও পানির স্রোতে ভেসে গেছে।
গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
বন্যার প্রবল স্রোতে গোর্খা ও পার্শ্ববর্তী ধাদিং জেলার মধ্যে সংযোগকারী একটি মহাসড়কের সেতু ভেসে গেছে। এতে ওই অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বুধি গণ্ডকি নদী ত্রিশূলী নদীর একটি উপনদী। নদীটির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় আশপাশের এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নদীর ভাটির দিকে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে এবং সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
গোর্খা ছাড়াও তানাহুন, চিতওয়ান, পূর্ব নাওয়ালপরাসি ও পশ্চিম নাওয়ালপরাসি জেলার নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। বন্যার পানি ও সম্ভাব্য ভূমিধসের ঝুঁকি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
আগের দুর্যোগের ক্ষত না শুকাতেই নতুন বিপর্যয়
নেপালে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যা বড় ধরনের দুর্যোগ সৃষ্টি করেছে। গত আগস্টেও দেশটির একটি নদী অববাহিকায় হিমবাহসংক্রান্ত ঘটনায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনার পরও বহু মানুষের নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া যায়।
এ ছাড়া সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য থেকে জানা গেছে।
নেপালের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের কারণে নদীর প্রবাহ আটকে গেলে হঠাৎ পানি জমে যেতে পারে। পরে সেই বাধা ভেঙে গেলে নিচের দিকে প্রবল স্রোতে পানি নেমে এসে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী বসতি, সেতু ও যোগাযোগ অবকাঠামো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
গোর্খার সর্বশেষ পরিস্থিতিতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন কর্তৃপক্ষের প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে নদীর ভাটির দিকে বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।









