ভারতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন ঘিরে আটক হওয়া ‘ককরোচ’ আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরপরই দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
রোববার আদালত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় দীপকে মোদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের জন্য লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তাঁকে কাপুরুষ ও অত্যাচারী শাসক বলেও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে আন্দোলনটি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। গত শনিবার দিল্লিতে পৌঁছানোর পর অভিজিৎ দীপকে ও আন্দোলনের অন্য কয়েকজন নেতাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। তাঁরা মুম্বাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটে দিল্লিতে পৌঁছেছিলেন।
সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেছেন। আগামী এক বছরের মধ্যে শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে পারে—এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার শর্তে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। একই সময়ে নিজ বাড়ি থেকে আটক হওয়া সমাজকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ ধ্রুব রাঠীকেও মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা
ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনকারীদের অন্যতম দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ। এই দাবিকে সামনে রেখে শনিবার নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে বড় ধরনের সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কর্মসূচি পণ্ড করতে কর্তৃপক্ষ ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে এবং হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিতর্ক
ভারত সরকারের দাবি, ভোটার তালিকায় থাকা দ্বৈত নাম, ভুল তথ্য এবং মৃত ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে তালিকা নির্ভুল করতেই সংশোধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দল ও সমালোচকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাঁদের দাবি, এর ফলে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে মুসলিম ভোটাররা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এ ছাড়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তালিকা সংশোধন করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মানুষের সংখ্যা এবং সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রভাব নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। সরকার ও সমালোচকদের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় বিষয়টি ভারতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
আন্দোলন ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
আন্দোলনের কারণে দিল্লিতে মেট্রো ও ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ নিয়ে আদালতে শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে আটক আন্দোলনকারীদের মুক্তির দাবিও জোরালো হয়েছে।
প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীসহ আন্দোলনের সমর্থকেরা প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
অভিজিৎ দীপকের মুক্তির পর নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে তাঁর কঠোর মন্তব্য রাজনৈতিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন কতটা বিস্তৃত হয় এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের বিরোধ কোন দিকে এগোয়।









