জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক যুগ্মসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাসকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ জানিয়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, মামলায় ধনঞ্জয় কুমার দাস পলাতক থাকায় এর আগে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। তবে তিনি এখনো ট্রাইব্যুনালে হাজির হননি। এ অবস্থায় মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে তাকে আদালতে হাজির বা আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

ধনঞ্জয় কুমার দাস তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনের সময় তৎকালীন সরকারের ‘কোর কমিটি’র বৈঠকে উপস্থিত থেকে মাঠপর্যায়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে নির্দেশনা ও তা তদারকির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

citytouch 728-X-90

এ মামলায় ধনঞ্জয় কুমার দাসের পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাংগীর আলমের বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ২৭ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের মাধ্যমে দুজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে। এর আগে গত ১৪ জুলাই প্রসিকিউশন জানিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে বলেও তখন জানানো হয়েছিল।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় দুই সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে উসকানি, নির্দেশনা প্রদান এবং অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

এখন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ অনুযায়ী প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ধনঞ্জয় কুমার দাসকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ট্রাইব্যুনালে হাজির বা আত্মসমর্পণ করতে হবে। তিনি আত্মসমর্পণ না করলে তার অনুপস্থিতিতেই মামলার আইনগত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।