মহাকাশে বড় ধরনের বিপদের মুখে পড়েছিল বাংলাদেশের গর্বের স্যাটেলাইট ‘বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১’ (বিএস-১)। গত ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনে হঠাৎ জরুরি সতর্কবার্তা আসে। যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থেকে জানানো হয়, বিএস-১-এর দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসছে ভারতের একটি পুরোনো স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ।

মহাকাশে এ ধরনের ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। এর আগে ২০০৯ সালে এমন একটি সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সচল একটি স্যাটেলাইট ও রাশিয়ার একটি নিষ্ক্রিয় স্যাটেলাইট ধ্বংস হয়ে মহাকাশে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়েছিল।

এবার একই ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ে বাংলাদেশের বিএস-১।

citytouch 728-X-90

চার দিন ছিল চরম উদ্বেগের

জরুরি সতর্কবার্তা পাওয়ার পর বিএস-১-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গাজীপুরের গ্রাউন্ড স্টেশনের প্রকৌশলীরা দ্রুত কাজ শুরু করেন। সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে হাতে থাকা সময় ছিল খুবই সীমিত।

বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান জানান, ওই চার দিন সংশ্লিষ্টদের চরম উদ্বেগের মধ্যে কাটাতে হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ছুটি বাতিল করে ৫০ জনের বেশি প্রকৌশলীকে কাজে যুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টারাও নিয়মিত পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।

প্রকৌশলীদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল স্যাটেলাইটটির কক্ষপথ সামান্য পরিবর্তন করে ধ্বংসাবশেষের সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়িয়ে যাওয়া। কারণ, কক্ষপথে সামান্য পরিবর্তনেও স্যাটেলাইটের অবস্থান ও পরবর্তী গতিপথে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

ধ্বংসাবশেষটি কোথা থেকে এসেছিল

পর্যবেক্ষণে জানা যায়, বিএস-১-এর দিকে এগিয়ে আসা ধ্বংসাবশেষটি ১৯৮২ সালে উৎক্ষেপণ করা ভারতের নিষ্ক্রিয় ‘ইনস্যাট-১এ’ স্যাটেলাইটের একটি অংশ।

এর আগেও ২০২১ ও ২০২৫ সালে বিএস-১ এমন মহাকাশীয় ধ্বংসাবশেষের সম্ভাব্য ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। তবে এবারের পরিস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি উদ্বেগজনক।

মাত্র ৮৫২ মিটার দূর দিয়ে পার হলো ধ্বংসাবশেষ

সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে কয়েক দফা হিসাব-নিকাশ ও বিশ্লেষণের পর ১৩ আগস্ট বিএস-১-এর কক্ষপথে সামান্য পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের প্রকৌশলীরা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী স্যাটেলাইটটিকে সামান্য বাঁ দিকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৮৫২ মিটার দূর দিয়ে দ্রুতগতিতে বিএস-১-এর পাশ কাটিয়ে যায় ধ্বংসাবশেষটি।

বিপদ কেটে যাওয়ার পর স্যাটেলাইটটিকে আবার তার নির্ধারিত কক্ষপথে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের দ্রুত সিদ্ধান্ত, নির্ভুল হিসাব-নিকাশ ও সফল পরিচালনার ফলে সম্ভাব্য বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনা মহাকাশে স্যাটেলাইট পরিচালনা ও ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে।