জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগে থেকেই বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা ও মতবিনিময় করে। জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন এ কর্মসূচি যথাযথ মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিল।

citytouch 728-X-90

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ইউজিসির সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট সবার সংযত, দায়িত্বশীল ও শৃঙ্খলাপূর্ণ আচরণ প্রত্যাশিত ছিল।

তবে অনুষ্ঠান চলাকালে কতিপয় শিক্ষার্থীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম, শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারে। একই সঙ্গে মতপ্রকাশ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সংযম, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধান ও শৃঙ্খলা মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঘটনার তদন্তে গঠিত তিন সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আজম খানকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মেজবাহ-উল-আজম সওদাগর।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, তদন্ত কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।