সার বিতরণকে কেন্দ্র করে কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ ও মারধরের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর ভূরুঙ্গামারীর কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদামতো সার চাইতে গিয়ে তাদের মামলায় আসামি করা হয়েছে। তবে কৃষি কর্মকর্তার দাবি, তাকে অবরুদ্ধ ও মারধরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের শহীদ মোড় এলাকায় বিএডিসি সার ডিলার আমজাদ হোসেনের মেসার্স আফি সার ঘরে সার বিতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

citytouch 728-X-90

গনাইয়েরকুটি মধ্যপাড়া গ্রামের কৃষক সুলতান মোল্লা গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে তার পরিবার জানিয়েছে। তার স্ত্রী শিউলী বেগম বলেন, “আমার স্বামী শুধু সার চাইতে গিয়েছিলেন। এখন তিনি ঘরছাড়া।” একই মামলায় গ্রেপ্তার কৃষক আল আমিন মোল্লা আট দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন। তার স্ত্রী জানান, জামিন করাতে প্রায় ২০ হাজার টাকা ঋণ করতে হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, মামলার পর অনেকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়িতে থাকছেন না। স্থানীয় ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, কয়েকটি গ্রামের কৃষকদের মধ্যে ভয় কাজ করছে। সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী মোল্লাও অজ্ঞাত আসামিদের বাদ দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, সার বিতরণের সময় উসকানিতে বিক্ষোভ হয় এবং তাকে ও অন্য কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়েছে। এ কারণেই মামলা করা হয়েছে।

ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রকৃত অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হচ্ছে এবং নিরপরাধ কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না। ইউএনও অমৃত দেবনাথও বলেন, মামলা তদন্তাধীন; যারা দোষী নন, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।