ভারতে ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক সংগঠনে রূপ নেওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-কে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে শুরু হওয়া আন্দোলন বর্তমানে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিস্তৃত হয়েছে।
চলতি বছরের জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির অবস্থান কর্মসূচি চলছে। এর আগে পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দলটি আন্দোলন শুরু করেছিল। পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকও ওই আন্দোলনে যোগ দিয়ে অনশন শুরু করেন।
গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে সিজেপির কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পুলিশের অনুমতি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজসহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি সংহতি জানান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে অভিজিৎ দীপকেকে মুম্বাইয়ের মেরিন ড্রাইভ এলাকা থেকে পুলিশ কিছু সময়ের জন্য আটক করে।
একই দিন দিল্লির যন্তর মন্তরের আশপাশে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৭০০-এর বেশি মানুষকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া জমায়েত ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ছিলেন।
সিজেপি ও আন্দোলনকারীরা এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার বাদ পড়ার অভিযোগ তুললেও নির্বাচন কমিশন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে নতুন করে যোগ্য ভোটারদের তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
অভিজিৎ দীপকে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে সিজেপির আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।










