যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও যুদ্ধের কারণে ইরানের তেল খাত যখন তীব্র চাপের মধ্যে, তখন পদত্যাগ করেছেন দেশটির তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির (NIOC) প্রধান নির্বাহী হামিদ বোভার্দকে ভারপ্রাপ্ত তেলমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, পাকনেজাদ কিছুদিন আগে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট তখন তাকে দায়িত্বে থাকার অনুরোধ করেছিলেন। তবে তিনি সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়। প্রেসিডেন্ট তার দায়িত্ব পালন ও সেবার প্রশংসাও করেছেন।

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে তেলমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা পাকনেজাদের পদত্যাগ এমন এক সময়ে হলো, যখন ইরানের তেল রপ্তানি ও জ্বালানি খাত বড় চাপের মুখে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও সামুদ্রিক অবরোধের কারণে দেশটির তেল পরিবহন ও রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

citytouch 728-X-90

চলমান সংঘাতে হরমুজ প্রণালিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হতো। ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে বলে এএফপি জানিয়েছে।

এরই মধ্যে ইরানে জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও চাপ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য নিয়েও সংকট তৈরি হয়েছে। তবে পাকনেজাদের পদত্যাগের ঘোষিত কারণ ব্যক্তিগত, তাই এটিকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে পদত্যাগ হিসেবে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।