রাজধানীর বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মিম (২৪) নিহতের মামলায় ১৭ বছরের কিশোরের জামিনের বিষয়ে অধিকতর শুনানির জন্য আগামী ৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শিশু আদালত-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জামিন শুনানিতে কিশোরের পক্ষে ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. গোলাম মোস্তফা খান, অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেনসহ কয়েকজন আইনজীবী অংশ নেন।
শুনানিতে অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা খান আদালতকে জানান, মামলার বিষয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে আদালতের বাইরে সমঝোতা হয়েছে। এ ছাড়া মামলার এজাহারে কিশোরের নাম নেই এবং নিহতের পরিবারকে ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। এসব বিবেচনায় কিশোরকে জামিন দেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
আইনজীবী আরও দাবি করেন, নিহত মেহেদী হাসান শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। গাড়ি থেকে হর্ন দেওয়া হলেও তিনি তা শুনতে পাননি। এ কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে শুনানিতে উল্লেখ করেন তিনি।
জবাবে বিচারক বলেন, মামলাটি জামিনযোগ্য বা আপসযোগ্য নয়। এটি জামিন অযোগ্য মামলা। এ সময় মামলাটির ব্যাপক গণমাধ্যমে প্রচারের বিষয়টিও আদালতের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান বিচারক।
পরে আইনজীবীরা জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যরা আদালতে উপস্থিত রয়েছেন এবং কিশোরের জামিন হলে তাদের কোনো আপত্তি নেই। এ সময় নিহতের বড় ভাই, বাবা ও মামা আদালতের সামনে গিয়ে দাঁড়ান।
তখন বিচারক বলেন, ঘটনাটি গুরুতর। সমাজ ন্যায়বিচারের দিকে তাকিয়ে আছে। এ মামলায় মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান না থাকলেও সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এরপর কিশোরের আইনজীবীরা অধিকতর শুনানির জন্য সময় চান। শুনানি শেষে আদালত আগামী ৪ অক্টোবর জামিনের বিষয়ে অধিকতর শুনানির দিন ধার্য করেন।
যেভাবে ঘটেছিল
গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মিম। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে চাপা দেয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় মেহেদীকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন গাড়িটির চালকের আসনে থাকা ১৭ বছরের কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই রাতেই তাকে চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
পরদিন মেহেদীর ভাই মোক্তাদীর ইসলাম গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মারককে আসামি করা হলেও চালকের আসনে থাকা কিশোরের নাম এজাহারে ছিল না।
এ নিয়ে সমালোচনার পর বুধবার কিশোরকে গ্রেফতার করে গুলশান থানা পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আরেফীন ইসলাম। আদালত তাকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে কিশোরের আইনজীবী আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায় আপস হয়েছে। পরে কিশোরের জামিন আবেদন করা হলে আদালত অধিকতর শুনানির জন্য ৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।









