পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে চুরির ঘটনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একাত্তর টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত প্রায় ৫০টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে গেছে। এতে রেললাইনের বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সিগন্যাল ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পদ্মা রেললাইনে চুরি অবশ্য নতুন নয়। মানবজমিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই রেলপথ থেকে প্রায় ৯৩ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও যন্ত্রাংশ চুরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্ট (সিএসসি) বাংলাদেশ রেলওয়েকে চিঠি দিয়ে পুরো প্রকল্প করিডরে নিয়মিত চুরি ও নাশকতার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুরি হওয়া সরঞ্জামের মধ্যে রেললাইন-সংশ্লিষ্ট ৪২ ধরনের সামগ্রী রয়েছে। এ ছাড়া সেতু, কালভার্ট, আন্ডারপাস ও ভায়াডাক্ট থেকে ৮ ধরনের, স্টেশন ও ভবন থেকে ১৩ ধরনের, বৈদ্যুতিক ১৬ ধরনের এবং সিগন্যাল ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার ১৪ ধরনের সরঞ্জাম চুরির তথ্য পাওয়া গেছে।
এর আগে সময় টিভির এক প্রতিবেদনে ট্র্যাক ট্রান্সফরমার, ট্র্যাক পট ও সিগন্যাল কেবলসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরির কথা উঠে আসে। এসব সরঞ্জাম চুরি হওয়ায় কোথাও কোথাও স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার তথ্যও দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জনবল সংকট, সীমিত ট্রেন চলাচল এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবকে কাজে লাগিয়ে রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও যন্ত্রাংশ চুরি হচ্ছে। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চুরি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন রেলকর্মীরা।
পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প দেশের অন্যতম বড় রেল অবকাঠামো। তাই একের পর এক যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়, পুরো প্রকল্পের নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।










