রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং সরকারি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়া বাড়িয়েছে সরকার। চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে মোট ২৫ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। অর্থাৎ, এই সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা করে ঋণ নেওয়া হয়েছে।

ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে এসব অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বড় ঘাটতি এবং নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাব্য ব্যয়ের চাপের কারণে সরকারের অর্থের চাহিদা বেড়েছে।

রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি ২৯ হাজার কোটি টাকা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকা কম হয়েছে। রাজস্ব আদায়ে এই ঘাটতির কারণে সরকারের চলতি ব্যয় ও অন্যান্য আর্থিক চাহিদা মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

citytouch 728-X-90

তিন মাসে আরও ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ

অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাত থেকে আরও নিট ৩০ হাজার ১০৭ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ট্রেজারি বিল ও বন্ডের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এর আগে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।

ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধেই সরকারের ব্যাংকঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিদেশি তহবিল কমায় ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা

ব্যাংকারদের মতে, রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিদেশি উৎস থেকে সরকারের তহবিলপ্রবাহও কমেছে। ফলে বাজেটের অর্থায়ন ও সরকারি ব্যয়ের চাহিদা মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।

একজন ব্যাংকার জানান, বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কম থাকায় ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা অতিরিক্ত তারল্য সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ হচ্ছে। এতে সরকার তুলনামূলক সহজেই ব্যাংক খাত থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারছে।

বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহে প্রভাবের আশঙ্কা

সরকারের ব্যাংকঋণ বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় সরকারি ঋণ বৃদ্ধির প্রভাব কিছুটা সীমিত রয়েছে বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবং বিদেশি অর্থায়ন জোরদার করা না গেলে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণনির্ভরতা আরও বাড়তে পারে। এতে সরকারের সুদ ব্যয়ও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।