ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি স্থাপন ও পরে তা অপসারণের ঘটনা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাবি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আবু তৈয়ব হাবিলদার। সম্প্রতি এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি এসব বিষয়ে নিজের বক্তব্য ও হতাশার কথা জানান।

পডকাস্টে আবু তৈয়ব বলেন, জুলাই আন্দোলনে সাধারণ মানুষের রক্ত ও জীবনের বিনিময়ে অর্জিত পরিবর্তনের সুফল যদি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের অনুসারী বা তাদের পরিবারের সদস্যরা ভোগ করে, তাহলে তিনি এমন পরিস্থিতি জানলে আন্দোলনে অংশ নিতেন না। তিনি বলেন, ‘রাজাকার ও তাদের সন্তানরা ক্যাবিনেটে কিংবা সংসদে যাবে—এটা জানলে খোদার কসম, আমি এই আন্দোলন করতাম না।’

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল দুর্নীতি, দলবাজি ও স্বৈরাচারমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। তার অভিযোগ, আন্দোলনের পর সাধারণ মানুষকে পাশ কাটিয়ে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল এর সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে।

citytouch 728-X-90

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে আবু তৈয়বের বক্তব্য, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো ব্যক্তিকে কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন। ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি সরিয়ে প্রতিবাদ জানান।

আবু তৈয়ব দাবি করেন, জিন্নাহর ছবি সরানোর সিদ্ধান্ত কোনো রাজনৈতিক দলের নির্দেশে নয়; ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও ইতিহাসের প্রতি অবস্থান থেকেই তিনি এটি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও গোলাম আযমের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন।

তবে জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের সংসদে যাওয়ার প্রসঙ্গে আবু তৈয়বের বক্তব্য তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতামত ও হতাশার প্রকাশ। এ বক্তব্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা পরিবারের বিরুদ্ধে আদালত-স্বীকৃত অপরাধের প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত নয়।