নিজেদের বাড়ি ও গুদামে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা করার কয়েকদিন পর ৬৫ বছর বয়সী নূরজাহান বেগমকে বাড়ি থেকে নিয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলা গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে নিয়ে যায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
পরিবারের দাবি, গত ১৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বিরোধের জেরে নূরজাহানের বাড়ি ও গুদামে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২১ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা করেন নূরজাহান। মামলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও কৃষকদলের কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
নূরজাহানের মেয়ে সেলিনা আক্তার শিল্পীর অভিযোগ, মামলা করার পর থেকেই স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছিলেন। রোববার সকালে পুলিশ ‘ওসি সাহেব কথা বলবেন’ বলে নূরজাহানকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তাকে অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ১৫ সেপ্টেম্বর পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলা এলাকায় কৃষকদলের অফিস ভাঙচুর ও সেখানে থাকা ব্যক্তিদের মারধরের অভিযোগে ১৬ সেপ্টেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। মামলায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ ও আদালত সূত্রে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসি এসএম মামুনুর রশিদ দাবি করেছেন, কৃষকদল অফিসে হামলার ঘটনায় নূরজাহানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এ কারণেই তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে নূরজাহানের পরিবারের করা অগ্নিসংযোগের মামলার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।










