শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনির বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের পর ঢাকার কর্মস্থল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বদলি করা হয়। তবে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পরও ঢাকায় ফিরতে তিনি তদবির চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ জন্য একজন প্রতিমন্ত্রী ও একজন সংসদ সদস্যের ডিও লেটার সংগ্রহ করেছেন তিনি।তাতে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদ সদস্য মনিরুজ্জামান মনিকে ‘বিএনপিপন্থি’ বলে উল্লেখ করেছেন ওই প্রতিমন্ত্রী ও এমপি। পাশাপাশি দুজনের ডিও লেটারের ভাষাও হুবহু একই। এ নিয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং ১২ সেপ্টেম্বর নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে আলাদা ডিও লেটার দেন। দুটি চিঠিতেই মনিরুজ্জামানকে সৎ ও দক্ষ প্রকৌশলী উল্লেখ করে তাকে ঢাকার মেট্রো কার্যালয়ে বদলির সুপারিশ করা হয়েছে। চিঠিতে তাকে ও তার পরিবারকে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে ইইডির কর্মকর্তাদের দাবি, মনিরুজ্জামান রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগপন্থি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। এ অবস্থায় তাকে বিএনপিপন্থি হিসেবে উল্লেখ করে ডিও লেটার দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে অধিদপ্তরে আলোচনা চলছে।
মনিরুজ্জামানকে গত ৩০ জুলাই ঢাকা মেট্রো কার্যালয় থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বদলি করা হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ঢাকার বাড্ডার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টেন্ডার পাইয়ে দিতে ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের পর তাকে বদলি করা হয়। এ ঘটনায় এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইইডির প্রধান প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে পরবর্তী সময়ে সেই অভিযোগের তদন্ত আর এগোয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডিও লেটারে মনিরুজ্জামানের অসুস্থতার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, নির্মাণাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সময় পড়ে গিয়ে তার মাথায় আঘাত ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয় এবং বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসা চলছে। তবে ইইডির কর্মকর্তাদের দাবি, ২০২৪ সালে তিনি হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হলেও পরবর্তী পরীক্ষায় গুরুতর কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। তাদের অভিযোগ, পুরোনো অসুস্থতার বিষয়টি ব্যবহার করে এখন ঢাকায় ফেরার চেষ্টা করছেন তিনি।
অন্যদিকে মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, বদলির পর এক মাসের বেশি সময় তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে গড়িমসি করেন। পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যোগ দিলেও নিয়মিত সেখানে না থেকে ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে দাবি করেছেন অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, অনেককেই ডিও লেটার দেওয়া হয়। মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তিনি জানতেন না। তথ্য গোপন করে ডিও লেটার নেওয়া হয়ে থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
ইইডির প্রধান প্রকৌশলী তারেক আনোয়ার জাহেদী বলেন, বদলি ও ডিও লেটারের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেখে। আর শিক্ষাসচিব আবদুল খালেক জানান, কোনো ব্যক্তির নামে ডিও লেটার এলেও তার কেস হিস্ট্রি ও বদলির কারণ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিতর্কিত কারও ক্ষেত্রে ডিও লেটার বিবেচনায় নাও নেওয়া হতে পারে বলে জানান তিনি।










