রাজধানীতে গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক তিন ঘটনায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ে জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা, মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা-লুটপাট এবং ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

মোহাম্মদপুরে জমি দখলের চেষ্টা

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান হাউজিং এলাকায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক লোক সেখানে গিয়ে একটি নির্মাণাধীন প্লটের অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাট করে।

citytouch 728-X-90

অভিযোগকারী আব্দুল্লাহ আল মামুনের দাবি, ১১ কাঠা জমিটি তার মায়ের মালিকানাধীন এবং মোস্তাকের রহমান খোকন চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি জমিটি দখলের চেষ্টা করছেন। তাঁর অভিযোগ, হামলার সময় অফিস থেকে এসি, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রয়েছে।

অভিযোগে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজনের নেতৃত্বের কথা বলা হলেও অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন। নুরুল ইসলাম নামে এক বিএনপি নেতা এ হামলা সম্পর্কে কিছু জানেন না দাবি করে বলেন, তিনি ওই জমির স্থাপনা কিনে কয়েক মাস ধরে ভাঙছেন।

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-লুটপাট

এর আগে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, মুখোশধারী একটি বড় দল নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকা ও নগদ অর্থ লুট করে এবং পরে স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেয়।

এ ঘটনায় সোহেল, জুয়েল, জিহাদ ও রাব্বি নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা টাকার বিনিময়ে হামলায় অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন; তবে হামলার নেপথ্যে কারা ছিল, তা তদন্ত করছে পুলিশ।

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা

এদিকে শনিবার রাতে ইসিবি চত্বরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। স্টুডিওতে থাকা ব্যক্তিদের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল সেখানে ঢুকে বিভিন্ন সরঞ্জাম ও মালামাল নিয়ে যায় এবং যা নেওয়া সম্ভব হয়নি, সেগুলো ভাঙচুর করে।

সালমান মুক্তাদিরের পক্ষ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হলেও ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট অঞ্চলের পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটির পেছনে নিউগিনি প্রপার্টিজ ও পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে; স্টুডিওটি মূল লক্ষ্য ছিল না এবং চাঁদাবাজির ঘটনা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন।

এক দিনের ব্যবধানে রাজধানীর তিন এলাকায় এমন ঘটনায় হামলার ধরন, বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পৃথক ঘটনাগুলোর পেছনে কারা জড়িত এবং মূল পরিকল্পনাকারী কারা—তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।